কৃত্রিম নখ লাগালে অজু হবে?
অজুতে হাত, চেহারা, মুখ, পা ধুতে হয়। অজু শুদ্ধ হওয়ার জন্য এই অঙ্গগুলো ধোয়া ফরজ, নির্দিষ্ট নিয়মে এই অঙ্গগুলো তিনবার করে ধোয়া সুন্নত। এই অঙ্গগুলোর সামান্য অংশও যদি শুকনো থাকে তবে অজু শুদ্ধ হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, একবার আমরা রাসুলের (সা.) সঙ্গে মক্কা থেকে মদীনায় ফিরছিলাম। পথিমধ্যে যখন আমরা এক জায়গায় পানির কাছে উপনীত হলাম, তখন কিছু লোক আসরের নামাজের জন্য তাড়াহুড়া করে অজু করল। আমরা যখন তাদের কাছে পৌঁছলাম, তখন দেখতে পেলাম তাদের পায়ের গোড়ালিসমূহ স্পষ্ট ফুটে উঠছে, তাতে পানি পৌঁছেনি। এটা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, গোড়ালিগুলোর জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে অজু করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪১)
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, অজুতে যেসব অঙ্গ ধোয়া ফরজ, সেগুলোর সামান্য অংশেও যদি পানি না পৌঁছে, তাহলে তা শুদ্ধ হবে না। ফকিহ আবু বকর আল-হাদ্দাদ (রহ.) বলেন, কোনো নারী যদি গোসল করেন এবং তার নখের নিচে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া আটা লেগে থাকে, যার কারণে সেখানে পানি পৌঁছায় না, তবে ওই আটার নিচে পানি পৌঁছানো তার জন্য আবশ্যক।
এই বক্তব্য ফরজ গোসলের ব্যাপারে হলেও অজুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
তবে নখের নিচে জমে থাকা সাধারণ ময়লা স্বাভাবিকভাবে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় না। তাই সাধারণ অবস্থায় নখের নিচে এমন ময়লা থাকলেও অজু শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে কোনো ময়লা যদি শুকনো বা পুরু হওয়ার কারণে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা অপসারণ করে নিচে পানি পৌঁছানো আবশ্যক। অন্যথায় অজু ও গোসল কোনোটিই শুদ্ধ হবে না।
আর কৃত্রিম নখ আসল নখের ওপর আবরণ সৃষ্টি করে। ফলে তা লাগানো অবস্থায় অজু বা গোসল করলে সাধারণত আসল নখে পানি পৌঁছায় না। তাই কৃত্রিম নখ অপসারণ না করে অজু বা গোসল করলে তা শুদ্ধ হবে না।
সম্পর্কিত সংবাদ
মিথ্যা কসম করলে যে ক্ষতি
মানুষের কথার ওপর বিশ্বাস ও আস্থাই সামাজিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সেই বিশ্বাসের জায়গায় যখনবিস্তারিত…
আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতির জন্য মৃতের গোসল, দাফনে দেরি করা কি ঠিক?
কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, জানাজা বহন ও দাফনবিস্তারিত…
