মিথ্যা কসম করলে যে ক্ষতি
মানুষের কথার ওপর বিশ্বাস ও আস্থাই সামাজিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সেই বিশ্বাসের জায়গায় যখন মিথ্যা প্রবেশ করে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ। আর নিজের বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করতে কেউ যখন আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করে, তখন তা শুধু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা নয়, বরং আল্লাহর নামেরও অবমাননা।
ইসলামে মিথ্যা কসমকে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবিরা গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্যতা করা, মানুষ হত্যা করা ও মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৭)
মিথ্যা কসমের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, এটি মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ধ্বংস করে। ব্যবসা-বাণিজ্যে পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে মিথ্যা কসম করা, ঋণ অস্বীকার করতে আল্লাহর নাম নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া—এসব কাজের মাধ্যমে মানুষ অন্যের অধিকার নষ্ট করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৫)
আল্লাহর নামে কসম করে মিথ্যা বলা মানুষের কাছে সাময়িকভাবে সুবিধা এনে দিতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে অর্জিত সুবিধা কখনো প্রকৃত সফলতা নয়। বরং এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতাকে দুর্বল করে দেয়।
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা কারও অধিকার নষ্ট করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৭৩)
এ হাদিস মানুষকে সতর্ক করে যে, দুনিয়ার কোনো স্বার্থের জন্য আল্লাহর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা বলা উচিত নয়।
মিথ্যা কসমের অভ্যাস থেকে বাঁচতে হলে কথা বলার আগে সতর্ক হওয়া, অপ্রয়োজনে কসম না করা এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কেউ মিথ্যা কসম করে ফেললে তার উচিত আন্তরিকভাবে তওবা করা, অন্যের অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার সংকল্প করা।
সম্পর্কিত সংবাদ
কৃত্রিম নখ লাগালে অজু হবে?
অজুতে হাত, চেহারা, মুখ, পা ধুতে হয়। অজু শুদ্ধ হওয়ার জন্য এই অঙ্গগুলো ধোয়া ফরজ,বিস্তারিত…
আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতির জন্য মৃতের গোসল, দাফনে দেরি করা কি ঠিক?
কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, জানাজা বহন ও দাফনবিস্তারিত…
