মানুষকে মৃত্যুর চেয়েও বেশি খোঁজে রিজিক
আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দার জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা অবশ্যই তার কাছে পৌঁছাবে। আল্লাহ যার জন্য যে লোকমা নির্ধারণ করেছেন, তা অন্য কেউ খেয়ে ফেলবে না; বরং সেটি তার কাছেই পৌঁছাবে।
গোটা সৃষ্টি যদি একত্র হয়ে কারো রিজিকে বাধা দেয়, অথচ আল্লাহ তার জন্য তা নির্ধারণ করে রেখেছেন—অবশ্যই তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাবে।
আর তারা সবাই যদি একত্র হয়ে কাউকে এমন কোনো রিজিক পৌঁছে দিতে চায়, যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেননি, তবু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ আল্লাহ যা দান করেন, তা কেউ আটকে রাখতে পারে না; আর তিনি যা আটকে রাখেন, তা কেউ দান করতে পারে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করেন, তা রোধ করার কেউ নেই।
আর তিনি যা রোধ করেন, তাঁর পরে তা পাঠানোরও কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২)
প্রত্যেক মানুষ তার জন্য নির্ধারিত রিজিক পূর্ণভাবে লাভ করার পরই মৃত্যুবরণ করবে। তার জন্য নির্ধারিত রিজিকের কোনো অংশ বাদ পড়বে না।
রিজিকের ব্যাপারে একটি বিস্ময়কর ঘটনা স্মরণীয়। এক ব্যক্তি একটি উঁচু ভবন থেকে পড়ে গেল। লোকজন তার চারপাশে জড়ো হলো। সে বলল, আমার তেমন কিছু হয়নি; আমি একটু পানি পান করতে চাই। পানি পান করার পরপরই সে মারা গেল।
আসলে সেই পানির চুমুকই ছিল তার জন্য অবশিষ্ট থাকা শেষ রিজিক। প্রত্যেক মানুষের রিজিক তার কাছে পৌঁছায়; বরং রিজিক যেন তাকে খুঁজে বেড়ায়। আবু নুআইম তাঁর ‘হিলয়াতুল আওলিয়া’ গ্রন্থে জাবের (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদমসন্তান যদি মৃত্যুর কাছ থেকে পালানোর মতো করে তার রিজিক থেকে পালাত, তবু তার রিজিক তার কাছে পৌঁছে যেত, যেমন মৃত্যু তার কাছে পৌঁছে যায়।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৫২৪০)
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রিজিক মানুষকে তার মৃত্যুর চেয়েও বেশি খুঁজে বেড়ায়।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৩৫৫১)
রিজিকের মালিক আল্লাহ। মানুষের চেষ্টা, চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য উপায় রিজিক অর্জনের মাধ্যম; কিন্তু চূড়ান্ত দাতা আল্লাহ তাআলা। তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা যাবে না। আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জিবরাইল (আ.) আমার অন্তরে এ কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে কোনো প্রাণ তার নির্ধারিত আয়ু পূর্ণ করা এবং তার জন্য নির্ধারিত রিজিক সম্পূর্ণভাবে লাভ করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ২০৮৫)
একবার নবী (সা.) একটি ভাসমান খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি সেটি তুলে নিয়ে একজন ভিক্ষুককে দিলেন এবং বলেন, ‘জেনে রেখো, তুমি যদি এর কাছে না আসতে, তবে এটিই তোমার কাছে আসত।’ (তাবারানি ও বায়হাকি)
মূলকথা হলো, মানুষের জন্য যা নির্ধারিত, তা আল্লাহর হিকমত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাবে। তাই বৈধ উপায় অবলম্বন করে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। অন্যের রিজিক দেখে হিংসা করা যাবে না। আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর হিকমত অনুযায়ী দান করেন। অন্যের প্রাপ্তি নিজের জন্য নির্ধারিত রিজিক কেড়ে নেয় না।
সম্পর্কিত সংবাদ
নওমুসলিমের আগের নামাজ কাজা করতে হবে কি?
ইসলাম গ্রহণ করলে মানুষের অতীত জীবনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তবে নামাজ ইসলামের অন্যতমবিস্তারিত…
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোওবিস্তারিত…
