আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যত অর্জন
ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কাটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর আভাস তিনি আগেই দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সাল শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করলেন না পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের আইকনিক ‘৭’ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
চল্লিশোর্ধ্ব এই স্ট্রাইকার মাঠের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেও বিশ্ব ফুটবলের রেকর্ডের পাতায় তাঁর এই রাজত্ব চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার দিনে চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক পর্তুগিজ কিংবদন্তির অমর সব কীর্তি ও অর্জনের খতিয়ান।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অমর রেকর্ডসমূহ
ফুটবলের মূল মঞ্চে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোনালদোর অর্জন যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই ঈর্ষণীয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যেসব রেকর্ড গড়েছেন, তা ভাঙা ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের জন্য এক প্রকার অসম্ভব বললেই চলে—
-আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৬টি গোলের মালিক তিনি।
-দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ ২৩৪টি ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ড তাঁর দখলে।
-টানা ২৩ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করার বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
-ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০টি হ্যাটট্রিকের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
-বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৪১টি গোল এবং ইউরো বাছাইপর্বেও সর্বোচ্চ ৪১টি গোল করে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন সিআরসেভেন।
বিশ্বকাপ ও ইউরোর সোনালী অধ্যায়
বড় টুর্নামেন্টগুলোতে রোনালদোর পারফরম্যান্স বরাবরই ছিল অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি গড়ে গেছেন একের পর এক ইতিহাস—
-২০০৬ থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার একমাত্র বিশ্বরেকর্ড তাঁর নামের পাশে।
-সর্বমোট ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইতিহাসের তিন কিংবদন্তির একজন তিনি; বাকি দুজন হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া।
-বিশ্বকাপ এবং ইউরোর মূল পর্ব মিলিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৫৭ ম্যাচ ও ২৫টি গোল করেছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
-ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬টি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া, সর্বোচ্চ ৩০টি ম্যাচ খেলা এবং ১৪টি গোল করার রেকর্ডও তাঁর দখলে।
-একই সঙ্গে পাঁচটি ভিন্ন ইউরো আসরে গোল করা এবং তিনটি ভিন্ন ইউরো আসরে অন্তত তিনটি করে গোল করা ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় তিনি।
-২০১৬ সালে পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন করার মূল কারিগর ছিলেন রোনালদো।
উয়েফা নেশনস লিগ ও ক্লাব ফুটবলের রাজত্ব
দেশের জার্সিতে শুধু ইউরো নয়, নেশনস লিগের মঞ্চেও সফল ছিলেন রোনালদো। আর্লি হালান্ডের (২২) পর আলেক্সান্ডার মিত্রোভিচের সঙ্গে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্টে ১৫ গোল করেছেন তিনি। দেশের হয়ে দুবার (২০১৯ ও ২০২৫) উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন।
অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলেও তাঁর অর্জন কম নয়। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪০ গোল এবং ১৮৩ ম্যাচ খেলে সবার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে একাই করেছিলেন ১৭টি গোল, যা টুর্নামেন্টের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ। নকআউট পর্বে ৬৭ গোল, টানা ১১ ম্যাচে গোলের রেকর্ড এবং তিনটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করা একমাত্র ফুটবলার হিসেবেও তিনি অনন্য। এছাড়া রেকর্ড সাতবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।
ফুটবল মাঠে ব্যক্তিগত অর্জনের প্রায় সব বড় পুরস্কারই নিজের করে নিয়েছেন রোনালদো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির (৮) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বার ব্যালন ডি’অর জয় করেছেন তিনি। এছাড়া চারবার উয়েফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং উয়েফার বর্ষসেরা একাদশে সর্বোচ্চ ১৫ বার জায়গা করে নেওয়ার রেকর্ডও এই পর্তুগিজ মহাতারকার মুকুটে যুক্ত রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ
এশিয়া কাপের দল ঘোষণা, জায়গা পেলেন সাব্বির
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের জন্য বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। দলে জায়গাবিস্তারিত…
(Untitled)
চোটের সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বার্সেলোনার। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের আগে দুঃসংবাদবিস্তারিত…
