দিল্লি থেকে আঁকা হচ্ছে ছক, আরেকটি এক-এগারোর পাঁয়তারা: নাহিদ ইসলাম
দেশের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে আরেকটি এক-এগারোর পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। দিল্লি থেকে এর ছক আঁকা হচ্ছে অভিযোগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম লিখেন- ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে, বাংলাদেশেকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারো দিল্লি থেকে ছঁক আকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রুপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটা এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে।’
এনসিপির আহ্বায়ক লিখেন- ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থী ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ড. ইউনূসকে জনগণকে দেওয়া সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উনাকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। ঘোষিত টাইম ফ্রেমের মধ্যেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের জুলাই সনদ রচিত হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একিসাথে দিতে হবে।
এদিকে শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হোটেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সারাদেশের সংগঠকদের নিয়ে পরিচিতি ও সাধারণ সভায় নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, তা মোকাবেলা করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের রাজনীতি ও অস্তিত্ব হচ্ছে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জুলাইকে যত বেশি ধারণ করতে পারব তত বেশি এগিয়ে যেতে পারব। দুঃখজনক হলো অভ্যুত্থানের অংশীদাররা একে ক্ষমতার পালাবদল বলে মনে করছে। যার বিরোধিতা করেছে এনসিপি। আমরা মৌলিক সংস্কার চেয়েছি। কিন্তু তারা জুলাইকে রেজিম চেঞ্জ হিসেবে দেখছে। পুরোনো সংবিধানকে আকড়ে ধরে ক্ষমতায় যেতে চাইছে। এখানেই আমাদের আপত্তি। এখন আমাদের দরকার সংগঠিত শক্তি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। এর ফাঁদে পা না দিয়ে আমরা বরং ঐক্যবদ্ধ থাকব। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি বাস্তবায়নে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, আমরা তার মোকাবেলা করব। জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র শহীদ ও আহতদের উপহার হিসেবে দিতে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল ও জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতারা।
সম্পর্কিত সংবাদ
তোমাদেরকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে: ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পড়াশুনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়েবিস্তারিত…
মৌলিক সুবিধা দেশের সব অংশেই গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার উপর চাপ কমাতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক (বেসিক) সুবিধাগুলোকে দেশের সব অংশেই পর্যায়ক্রমিকভাবেবিস্তারিত…
