হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মার্কিন বাহিনী নিজের হাতে তুলে নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রণালিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছি এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। তাদের (ইরান) কিছুই নেই। তাদের হাতে কিছুই নেই।’

ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় মার্কিন ভূমিকাকে ‘গার্ডিয়ান অ্যান্জেল অব দ্য স্ট্রেট’ (প্রণালীর অভিভাবক দেবদূত) নাম দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। একই সঙ্গে এই বিশ্ব বাণিজ্য পথ পাহারা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করার ঘোষণাও দেন।

তিনি বলেন, ‘অন্য দেশগুলো অত্যন্ত ধনী এবং তারা আমাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে এই কাজ আশা করতে পারে না’।

রোববার রাতভর ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘গত রাতে খুব কঠোর আঘাত হেনেছে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তারা পিছু হটছে। তাদের বেশিরভাগ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে গেছে’।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি সব দেশের বৈধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এখনও উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল সচল আছে।

তবে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করে বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, ইরানের ঘোষণার পর গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিজেদের লাইভ লোকেশন দেখিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। তবে অন্য কিছু জাহাজ তাদের ট্রান্সমিটার বন্ধ রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করে থাকতে পারে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার তেলবাহী জাহাজ (ট্যাঙ্কার), বাল্ক ক্যারিয়ার এবং কার্গো জাহাজসহ মোট আটটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। শনিবারও এই সংখ্যা ছিল ২১টি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা হরমুজে জাহাজ চলাচলা শুরু হলে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কয়েকদিন আগেও ৭০.১৪ ডলারে নেমে এসেছিল তেলের দাম।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে জ্বালানি তেলের তেলের দাম খুব শিগগিরই প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে।

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন ...
fb-share-icon





সম্পর্কিত সংবাদ

  • ৩ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করল সৌদি
  • সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল আফগানিস্তান
  • আমৃত্য লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করল ইরান
  • ইরানের এখনো সামরিক সক্ষমতা আছে : পেন্টাগন
  • সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শুক্রবার
  • ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী: আইডিএফ
  • Copy link
    URL has been copied successfully!