ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিসে যোগ দিলো ইসরায়েল

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার প্রশাসন পরিচালনা ও পুনর্গঠন তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গঠিত ফোরাম বোর্ড অব পিসে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত কাল বুধবার নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ওয়াশিয়টনে ব্লেয়ার হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেখানে আমি বোর্ড অব পিসে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্তি করা বিষয়ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। তারপর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের যে অটুট মিত্রতা— তাকে আরও শক্তিশালী করতে আমি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়েই প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার জন্য ইসরায়েল সরাসরি দায়ী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

আইডিএফের দুই বছরের নিষ্ঠুর অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু, সেউ সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা উপত্যকা।

দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে গাজায় অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি নেতানিয়াহু। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের চাপে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরায়েল।

২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি পরিকল্পনা পেশ করেন ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয় সেই পরিকল্পনা।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ ছিল যে যুদ্ধবিরতির পর গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করা হবে, যার নাম হবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)।

আরও বলা হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ গঠন করা হবে এবং গাজার টেকনোক্র্যাট সরকার ও আইএসএফ ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বোর্ড অব পিস গঠন করেন ট্রাম্প এবং বিভিন্ন দেশকে বোর্ড অব পিসে সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই সঙ্গে বোর্ড অব পিসের প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের জন্য ১০০ কোটি ডলার করে চাঁদা নির্ধারণ করেন তিনি। গাজার পুনর্গঠন খাতে ব্যয় হবে এই অর্থ।

পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্যপদ নিয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এ বোর্ডের প্রথম বৈঠকও হয়েছে।

এবার সদস্যরাষ্ট্রের তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। সূত্র : এএফপি

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন ...
fb-share-icon





সম্পর্কিত সংবাদ

  • মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি
  • সৌদিতে হুথিদের হামলার নিন্দায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ
  • ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের , জাতিসংঘের ভাষণে
  • মক্কা চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠকে বসছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান
  • সাইপ্রাস উপকূলে ২৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে নৌকা ডুবি
  • নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭৫২, নিখোঁজ ২৫০০
  • রোমে বিমানের ভেতর ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা আড়াই শতাধিক যাত্রী
  • ফের আন্দোলনের হুমকি দিল ককরোচ পার্টি
  • Copy link
    URL has been copied successfully!