আমরা জনগণের শক্তি দিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই: তারেক রহমান
ক্ষমতায় গেলে জনগণের শক্তি দিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ তাদের কেড়ে নেওয়া অধিকার প্রয়োগ করবে। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, দেশ পুনর্গঠনেরও নির্বাচন।
বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বললেন যে, এই এলাকার এয়ারপোর্টটার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন হলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এলাকার এয়ারপোর্ট ইনশাআল্লাহ চালু করব।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি, আমরা একাত্তর সালে যুদ্ধ করেছি, আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি। ২০২৪ সালে আমরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন আমাদেরকে দেশকে গঠন করতে হবে। এখন আমাদের এই দেশকে তৈরি করতে হবে— এই দেশের অর্থনীতিকে, এই দেশের গণতন্ত্রকে আমাদের মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে যাতে এই দেশের মানুষের সামনে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে।
বিএনপি কোনো ধর্মীয় বিভাজন চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, একাত্তর সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তখন আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান। আমরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যখন রাজপথে সারা বাংলাদেশের মানুষ নেমে এসেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে; আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি। আগামী হাজার বছরেও আমরা চাই প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে এই দেশে বসবাস করবে। যে যার যোগ্যতার ভিত্তিতে, যে যার মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার যোগ্যতা, তার মেধার ভিত্তিতে— ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না তাকে।
নারীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।
কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে, সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই এলাকা কৃষিনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব, যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনি জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কী করব। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।
সম্পর্কিত সংবাদ
আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না : শফিকুর রহমান
ডেস্ক নিউজ :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেবিস্তারিত…
রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণ হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগবিস্তারিত…
