হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদান ও ছুটি বৃদ্ধি

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদান বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় তাদের তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

 

প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব মধু পূর্ণিমা বা ভাদ্র পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্যও চাহিদার চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটিও বাড়ছে। এ বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে থাকবে সাধারণ ছুটি। পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। কিন্তু আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ওই দিনও (২২ অক্টোবর) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই সূত্র জানিয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাও সাধারণত চালু থাকে।

তবে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় কিছু প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।

দুর্গাপূজা ঘিরে টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের এ উৎসব উদ্‌যাপনের সুযোগ বাড়ছে। আর অনুদানের ক্ষেত্রেও চাহিদার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর এ আন্তরিক প্রয়াসকে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।’

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন ...
fb-share-icon





সম্পর্কিত সংবাদ

  • বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি
  • অস্ত্রের তথ্য দিলে আইনি ঝামেলা ছাড়াই পুরস্কৃত করা হবে: এসআরবি
  • সারাদেশে একযোগে ৯৯ জন বিচারক বদলি
  • হামের উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩২০
  • গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি
  • ঢাকার সিটি নির্বাচন: মেয়র প্রার্থী নিয়ে ‘টানাটানি’ জামায়াত-এনসিপির
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • Copy link
    URL has been copied successfully!