SL News রাজনৈতিক

নিরপরাধ কাউকে পুলিশ গুলি করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, বিনা অপরাধে কাউকে গুলি করা হয় না, বরং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। আর কোনো অভিযানে গেলে মাদকবিক্রেতারা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করলেই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস মাঠে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত ‘মাদকবিরোধী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাদকবিক্রেতাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকবিক্রেতাদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করতে চান তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যথায় তালিকা ধরে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে, তাদের জেলখানায় যেতেই হবে। আর অস্ত্রের ব্যবহার করলে তার কী পরিণতি হবে, সেটা বুঝতেই পারছেন।

সুশীল সমাজের তরফ থেকে ওঠা ‘বিনাবিচারে হত্যা’র অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বিনা অপরাধে কাউকে গুলি করে না। আপনারা জানেন, যেখানে মাদক বেচাকেনা রয়েছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। মাদকবিক্রেতাদের খুঁজছে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, তাদের কাছাকাছি গেলেই অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই সন্ত্রাসীরা ফায়ার ওপেন করলেই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করেন।

মাদকবিক্রেতাদের তালিকা তৈরি করার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, দেশজুড়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আশা করবো, মাদকবিক্রেতারা তওবা করে ব্যবসা ছেড়ে দেবেন। নয়তো আমাদের ব্যবস্থা চলতেই থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। মাদককে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবো।মাদকবিরোধী শপথ পড়ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর জন্য যা যা করণীয় তার সব করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ‘জিরো টলারেন্স’র কথা বলেই বসে নেই। প্রত্যেক জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে অফিস করা হয়েছে। আমরা আইন পরিবর্তন করেছি। যেখানে মাদক দেখছে সেখানেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিজিবিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে যেন ইয়াবা প্রবেশ করতে না পারে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ডকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ইয়াবা প্রবেশ করছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।

অবস্থাসম্পন্ন যুবসমাজ ‘সিসা বার’র দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সিসার সঙ্গে তারা ইয়াবা সেবন করছে। তাই সিসা বারগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, এ অধিদফতর ঠুঁটো জগন্নাথ বা নিধিরাম সর্দারের অপবাদ কাটিয়ে উঠেছে। আগে দুই জেলায় একটি অফিস ছিল, এখন প্রতি জেলায়ই অফিস করা হয়েছে। ১৭ হাজার জনবলের অধিদফতরকে ৩২ হাজার ২২২ জন জনবলে পরিণত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে মাদকের অস্তিত্ব থাকবে না বলেও জানান তিনি।

কথাসাহিত্যিক ও মনোবিদ ড. মোহিত কামাল বলেন, মাদক আমাদের বিবেককে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের প্রভাবে বিবেকহীন শূন্য জাতি গড়ে উঠবে। যুবসমাজের মৃত্যুর আগে মৃত্যু হয়ে যাচ্ছে। তাই আন্দোলনটা শুরু করতে হবে ঘর থেকে।

চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ইয়াবা তিলে তিলে যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা আমরা বন্ধ করতে পারছি না। ৭৫ লাখ মাদকাসক্তের মধ্যে ৮২ ভাগই তরুণ। মাদকের কারণে গত ১০ বছরে সন্তানদের হাতে ২০০ বাবা-মা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

সমাবেশ শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান উপস্থিত সবাইকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান।

About the author

quicknews

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

March 2019
S M T W T F S
« Feb    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31