খাবারের পর মিষ্টি খাওয়া কি সুন্নত
খাবারের পরে মিষ্টি খাওয়াকে অনেক সময় সুন্নত হিসেবে প্রচার করা হয়। খাবারের পর মিষ্টি খাওয়াকে সুন্নত বলে প্রচার করার পক্ষে বিশুদ্ধ হাদিসের প্রমাণ পাওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে খেজুরসহ বিভিন্ন খাবার গ্রহণের বিবরণ পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো খাবার তিনি গ্রহণ করেছেন বলেই সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া সুন্নত হয়ে যায় না। কোনো কাজকে বিশেষভাবে সুন্নত বলতে হলে সে বিষয়ে শরিয়তসম্মত প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
অনেকে যুক্তি দিয়ে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর খেতেন, আর খেজুর মিষ্টি ফল।
তাই খাবারের শেষে মিষ্টি খাওয়া সুন্নত। কিন্তু এ যুক্তি যথেষ্ট নয়। খেজুর একটি পুষ্টিকর ফল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাসের অংশ ছিল; তবে তিনি খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া বিষয়টিকে সুন্নত বলা যায় না। বরং রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর পরিবারের সাধারণ জীবনযাপনে খাবারের স্বল্পতা ও অনাড়ম্বরতার বিবরণ পাওয়া যায়।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, আমাদের ওপর দিয়ে এমন মাসও অতিবাহিত হতো, যখন আমরা ঘরে রান্নার আগুন জ্বালাতাম না। আমাদের প্রধান খাবার ছিল খেজুর ও পানি। কখনো সামান্য গোশত পাওয়া যেত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৮)
সুতরাং, খাবারের পর মিষ্টি খাওয়া জায়েজ এবং কারও ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে। কিন্তু এটিকে সুন্নত মনে করা বা সুন্নত হিসেবে প্রচার করা যথাযথ নয়।
একইভাবে, খাবারের আগে লবণ খাওয়াকেও সুন্নত বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোওবিস্তারিত…
নারীরা স্বর্ণের যাকাত দিতে অক্ষম হলে কী করবেন?
আমি একজন গৃহিণী। আমার প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ আছে। যা আমার বিবাহের মোহরানা ও মা-বাবারবিস্তারিত…
