বুলেটিন

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে কোন স্বৈরশাসকের শেষ রক্ষা হয়নি—সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, হামলা চালিয়ে, হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে সাংবাদিক সমাজকে স্তব্ধ করা যাবে না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে কোন স্বৈরশাসকের শেষ রক্ষা হয়নি।এ সরকারও রেহাই পাবেনা।

সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত ৪০ জন সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তৃতায় তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা শনিবারের মধ্যে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে আগামী রোববার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন, ডিআরইউ’র সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল কবীর সুমন, সাবেক অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল, ডিইউজে বাসস ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম মানিক, দিনকাল ইউনিটের ডেপুটি প্রধান রাশেদুল হক, ডিইউজে নেতা এইচ এম আল আমীন প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে মিছিল সমাবেশ অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক নেতা নূরুল আমিন রোকন, সাদ বিন রাবি, শফিউল আলম গ্যালমান, জাকির হোসেন, নাসিম শিকদার, কবি রফিক হাসান প্রমুখ।

রুহুল আমীন গাজী বলেন, এ সরকার সাংবাদিকদের কলম স্তব্ধ করে ক্ষমতা চির¯’ায়ী করতে চায়। সরকারের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। সরকার কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যেভাবে প্রতারণা করেছে সেভাবে শিক্ষাথীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে লড়াই করছে তা অব্যাহত থাকবে।

এম. আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা সন্ত্রাসীদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, তাদের হুকুমেই হামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের আস্কারা দেওয়ার পরিণাম শুভ হবে না। তিনি বলেন, এক সপ্তাহে রাজপথে ৪০ জন সাংবাদিকের রক্ত ঝরিয়ে বিশ্বব্যাপী যে ধিক্কার কুড়িয়েছে তাতে সরকারের লজ্জিত হওয়া উচিত।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, সরকারি দলের ক্যাডারদের বর্বরতায় আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা হাসপাতালে কাতরা”েছন, অথচ এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। সাংবাদিকরা এক দফার সংগ্রাম শুরু করলে কেউ রেহাই পাবে না।

মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে তথ্যমন্ত্রী চিঠি চালাচালির নাটক করেছেন। নাটক বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনুন।

ক্ষমতাসীন সরকারকে অনির্বাচিত স্বৈরাচার উল্লেখ করে মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, সরকারের পায়ের নীচে মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। জুলুম, নির্যাতন, হামলা ও মামলার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভা্বে রুখে দাঁড়ালে জন ভিত্তিহীন সরকার পালানোর পথ পাবে না।

About the author

kzaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

March 2019
S M T W T F S
« Feb    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31