নির্বাচন

লোকসভা নির্বাচনে জাল ভোট দেয়ার গুজব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

ভারতে চলমান লোকসভা নির্বাচনে নকল আঙ্গুল ব্যবহার করে জাল ভোট দেয়ার গুজব ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে এসব পোস্টে যে ছবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি আসলে জাপানের একটি কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরির কারখানার। এমন সংবাদ রোববার প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, জাল ভোট দেওয়ার জন্য মেশিনে বানানো হচ্ছে নকল আঙুল। নকল আঙুলের মধ্যে নিজের আঙুল গলিয়ে নিলেই হলো। সেই আঙুলে নির্বাচনের কালি পড়লেও বুথের বাইরে বেরিয়ে এসে খুলে ফেললেই হবে। আবার নকল আঙুল পরে নিয়ে ঢুকে পড়া যাবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। এ ভাবেই দেওয়া যাবে জাল ভোট। এই খবর নিয়েই এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।

তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর অবশ্য জানা যায় এই খবর ভুয়া। ভারতে নকল আঙুল ব্যবহার করে ভোট দেয়া হবে, এই খবরের কোনও সত্যতা নেই। আসলে জাপানে ব্যবহৃত কৃত্রিম আঙুলের একটি ছবি নিয়ে তা ব্যবহার করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
যে ছবিটি ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই ছবিটি গুগলে খুঁজলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও এই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তখনও বলা হয়েছিল, জাল ভোটের জন্যই মেশিনে এই আঙুল বানাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই কৃত্রিম আঙুল কোন কাজে ব্যবহার করা হয়, সেই খোঁজও নেওয়া হয় তখনই। জানা যায় জাপানের কুখ্যাত মাফিয়া ইয়াজুকা নামের একটি দলের কথা।

এই ইয়াজুকারা অত্যন্ত গোপনে কাজ করে এবং এই দলের সদস্য হওয়ার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। তার অন্যতম হল, কেউ কোনও কাজে ভুল করলে নিজেই নিজের আঙুলের একটি অংশ কেটে জমা দিতে হয় মাফিয়া দলের বসের কাছে। যতবার বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা ঘটবে, ততবারই আঙুল কাটার ঘটনা ঘটবে।

কোনও কোনও ইয়াজুকা সদস্যের হাতের একাধিক আঙুল নেই, এমন নিদর্শনও আছে জাপানে। এরা সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে না কাটা আঙুলের জন্যই। তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতেই কৃত্রিম আঙুল তৈরি করেন জাপানের চিকিৎসকেরা। সেই আঙুলের ছবিতেই ভরে গিয়েছিল ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া।

আদপে পুরো খবরটিই ভুয়া, জানায় আনন্দবাজার।

About the author

szaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

April 2019
S M T W T F S
« Mar    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930