SL News রাজনৈতিক

ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত নন: চিকিৎসক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা ‘ওঠানামার’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে এখনই তাঁকে ‘শঙ্কামুক্ত’ বলতে পারছেন না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল, ‘শারীরিক অবস্থা বিবেচনায়’ সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আজ রোববার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের ডি-ব্লকের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তাঁর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। প্রাথমিক তথ্য জানিয়ে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ব্যাপারে ব্রিফিং দেওয়াও হয়।

দুপুর ২টার দিকে সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ‘উনার (ওবায়দুল কাদের) তিনটি নালিতেই ব্লক ছিল। যেটা ক্রিটিক্যাল ছিল, এলইডি বলে, সেটা ৯৯ ভাগ। এটার জন্যই উনার এই সমস্যাটা হয়েছে। আমরা শুধু সেটাকেই সারাই করছি। কিন্তু সেটা বোধ হয় পর্যাপ্ত নয়। যেহেতু তিনটা নালিই দরকার হয়, সেহেতু সবগুলো নালিই সারানো দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো সারানো যাবে না। সারাতে গেলে আরো বিপদ ঘটবে।’

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, ‘কিন্তু উনার এখন যে পরিস্থিতি আছে, ওইটা করার পরে উনি অনেক উন্নতির দিকে গিয়েছিলেন। আবার দেখা যায়, একটু ডিটোরেট করে, আবার একটু উন্নতি হয়। এই পর্যায়ে ওঠানামার মধ্যে আছে। এ অবস্থায় দেশবাসী আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেটা বেটার ট্রিটমেন্ট, যত সোর্স আছে, সমস্ত সোর্স ব্যবহার করতে পারি।’

‘ওবায়দুল কাদেরের শরীর একবার অবনতি হয়, আবার উন্নতি হয়। এমনভাবে ফ্ল্যাকচুয়েশন হচ্ছে। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে বলা যাবে না যে, উনি স্টেবল।’

চিকিৎসক আরো জানান, বাকি দুটি নালির মধ্যে একটি নালি ৮০ ভাগ ব্লক রয়েছে। আর আগের একটি হার্ট অ্যাটাকের হিস্ট্রি আছে। সে কারণে সেটিও ১০০ ভাগ ব্লক রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের জীবন শঙ্কায় আছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এই চিকিৎসক বলেন, ‘যেহেতু উনি ভেন্টিলেটরে আছেন, সেহেতু উনার জীবন শঙ্কা আছে বলতে পারেন।’

সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত আছে, উনার এখানে যেরকম চিকিৎসা চলছে, সেটাই সর্বাত্মক চিকিৎসা, সেটাতেই জোর দেওয়া। যত রকম সোর্স আছে, সেগুলোকে ব্যবহার করে প্রাণপণ চেষ্টা করা।’

এখন সিঙ্গাপুরে পাঠানো যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ‘এ মুহূর্তে সেটা বোঝা যাচ্ছে না, এখনই এটা বলা যাচ্ছে না। যদি বলেন, এখনই পাঠানো যাবে কি না, আমি বলব, না এখন পাঠানো যাবে না।’ কখন পাঠানো যাবে—এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা সময় বলবে।’

এর আগে সকালে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদকের মেডিকেল ইস্যুতে চিকিৎসকরাই বলবেন। আমাদের দলের পক্ষ থেকে উনাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

‘উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাঁকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছি। আশা করছি, তাঁকে সহসাই সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে পারব,’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে সাংবাদিকদের বলা হয়, আজ রোববার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন ওবায়দুল কাদের। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ইজিসি করা হয়। প্রথমে ইসিজি ভালোই ছিল। পরমুহূর্তেই দেখা যাচ্ছে, সিইসি স্লো হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, উনি শ্বাস নিতে পারছেন না। তার মানে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে গিয়েছিল।

তারপর ওবায়দুল কাদেরের এনজিওগ্রাম করা হয়। এতে দেখা যায়, তাঁর তিনটি রক্তনালি ব্লক। একটা নাড়ি খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, অযথাই যেন ভিড় করে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটানো না হয়। যদি তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো কিছু জানার দরকার হয়, তাহলে যেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে যদি ওবায়দুল কাদেরকে বিদেশ নিতে হয়, সেটিও করা হবে। চিকিৎসক যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন।’

আজ ভোরে ফজরের নামাজের পর পরই নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন ৬৭ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। পরে তাঁর স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ওবায়দুল কাদেরের একান্ত সচিব গৌতম চন্দ্র জানান, মন্ত্রীকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

About the author

quicknews

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

April 2019
S M T W T F S
« Mar    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930