SL News জাতীয়

প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায় সেভাবে দেশকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। তাদের ভোটের মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে। আমরা বাংলার মানুষকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সবাইকে এ কাজে অংশ নিয়ে গ্রামীণ জীবন মান উন্নত করতে হবে।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপি-জামায়াতের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের জনগণ তাদের আর ভোট দেবে না। কারণ যারা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে, হাজার হাজার গাছ কাটে, গরু ছাগল পর্যন্ত যাদের হাত থেকে রক্ষা পায় না, তাদের মানুষ কেন ভোট দেবে?
তিনি বলেন, লন্ডনে বসে মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্য তাদের দলের লোকেরাই ক্ষিপ্ত। কারণ টাকা দেয়ার পরও অনেকে মনোনয়ন পাননি। যারা নমিনেশন ওয়াকশনে দিয়েছে তাদের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাদের আর ভোট দেবে না।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নম্বর ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জন নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলা আমাদের জন্মগত অধিকার। কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তাই তো যখনই এই অধিকারের ওপর আঘাত এসেছে তখনই বাঙালি প্রতিবাদ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে দুর্বল করতে হলে শত্রুপক্ষ প্রথমে তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির ওপরে আঘাত হানে। পাকিস্তানিরাও তাই করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য পূর্ব বাংলার মানুষের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তখন পাকিস্তানের চেয়ে পূর্ব বাংলার জনসংখ্যা ছিল বেশি। অথচ দেশভাগের পর পরই পাকিস্তানের করাচিতে যখন সম্মেলন হয় তখন সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, উর্দু ভাষা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এ সিদ্ধান্তের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও গর্জে উঠেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের সহযোগিতা পেলে ২১ সালের মধ্য দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ৪১ সালের মধ্য দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা উপহার দিব। এজন্য ডেল্টা প্লান ২১০০ আমরা প্রণয়ন করেছি এবং এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ধুমধাম করে পালন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অামির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, অাওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, মহানগর নেতা একেএম রহমতুল্লাহ, সাদেক খান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা মেরিনা জাহান কবিতা।

About the author

quicknews

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

June 2019
S M T W T F S
« May    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30