স্বাস্থ্য তথ্য

ক্যান্সার প্রতিরোধে খান শাক

শীতকাল মানেই নানারকম রঙিন শাক। তবে শীত এখন যাই যাই বললেও শীতের শাক সবজির বাজার এখনো শেষ হয়নি। বাজারে পালং শাক, মেথি শাক, মটর শাক, সরষে শাক, লাল শাক, মুলা শাক ছাড়াও অনেক শাক পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে সব শাক শীতকালে নিয়মিত না খেলেও বেশির ভাগই বাড়িতে আনা হয়। কারণ শীতকালে যেকোনো শাক সহজপাচ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর।

শাক যেমন ওজন বাড়ায় না তেমনই লো-ক্যালরি সমৃদ্ধ। এর উচ্চমানের ফাইবার ক্যান্সার এবং হৃদযন্ত্রের যেকোনো রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলে।

শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং প্রচুর ফাইটো কেমিক্যাল। এছাড়াও আছে লুটেনইন, বিটা ক্রিপটোজানথিন, জিয়া জানথিন ও বিটা ক্যারোটিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ভাতের সাথে শাকসবজি কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলে প্রায় ১১ শতাংশ। গ্রিন স্যালাড সারাদিনে বারবার খেলে যেকোনো রোগের হার কমে বহুলাংশে।

কারণ এর মধ্যে থাকে অধিক পরিমান ম্যাগনেশিয়াম এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স লো। অর্থাৎ স্যালাড খেলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

এক বাটি শাক খেলে ৯ শতাংশ ডায়াবেটিসের আশঙ্কা কমে। বিশেষ করে টাইপ টু ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুবই ভাল রঙিন শাকপাতা।

শাকপাতার মধ্যে রয়েছে অতি উচ্চমাত্রার ভিটামিন কে, যা শরীরে অস্টিওক্যালশিয়াম উৎপাদনে সক্ষম। যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভীষণ কার্যকরি। মধ্যবয়সি নারীদের কোমরের হাড়ের ক্ষয় কমানোর সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ কমে যায় প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় শাক থাকলে।

শাকপাতা আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সেরা উৎস। পালংশাক বা বিটশাকে ক্যালসিয়াম কম থাকে কারণ এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমানের অক্সালিক অ্যাসিড।

সবুজ শাকসবজি বিটা ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ। এই বিটা ক্যরোটিন ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়ে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে উন্নত করে তুলে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাকে বাড়ায়।

শিশুদের অন্ধত্ব বা কম দৃষ্টিশক্তির কারণ ভিটামিন এ-র অভাব। যা আসে সবুজ শাকসবজি থেকে। এছাড়াও লুটেইন এবং জিয়াজানথিন ক্যারোটিনয়েড সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় গাঢ় সবুজ শাকসবজি থেকে।

চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটি। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও লেন্সকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। লাং ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায় শাক। সারাদিনে ৩ বার এক বাটি করে শাকসবজি স্যালাড, সেদ্ধ বা স্যুপ খেলে পাকস্থলির ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে যায়।

পালংশাক এর স্বাদ আর গুণ অনেক। এই শাক দেহে এনার্জি দেয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন। আয়রন আমাদের লোহিত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে, যা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ এবং তার সঞ্চালন উন্নত করে।

এছাড়াও পালং শাকে রয়েছে উচ্চমানের ভিটামিন কে, এ, সি, ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম, ও ভিটামিন বি-টু, ফাইবার, লুটিন, কামফেরল নিউট্রিয়েন্টস, কোয়েরসেটিন, জিয়াজানথিন। এটি ব্লাড প্রেশার, কিডনিতে পাথর, ক্যান্সার, রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করে।

About the author

quicknews

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031