সাহিত্য

অন্যরকম বই পড়া উৎসব

সামিয়ানা টানানো বিশাল প্যান্ডেল। সারি সারি করে রাখা ৫২ জোড়া বেঞ্চ। আর এসব বেঞ্চে পড়ছেন ১৩৫ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সবাই পড়ছেন প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক।
বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার এসআই মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে আয়োজন করা হয় বই পড়া উৎসব। তবে এখানে বইপড়ুয়া ছিলেন কেবলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। উপজেলার কড়িয়াল ক্লাস্টারের ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন এই উৎসবে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে এই বই পড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া উৎসবে শিক্ষকরা সুশৃঙ্খলভাবে ছাত্রছাত্রীর মতো প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক নিয়ে পড়তে বসেন। যদিও উৎসবে মূল্যায়ন পর্ব থাকায় গত ১৫ দিন ধরে শিক্ষকরা মেতেছিলেন বই পড়ার আনন্দে।

দুপুর ১টায় তারা বসেন মূল্যায়নের লিখিত পরীক্ষা দিতে। ৮০ নম্বরের ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা পর্ব ছাড়াও ১০ নম্বরের কুইজ এবং ১০ নম্বরের ওপেন রাউন্ডে অংশ নেন শিক্ষকরা। সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে বই পড়া উৎসবের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহদী হাসানের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক ভূঞা ও যশোদল ইউপি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলার কড়িয়াইল ক্লাস্টারের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার মৃধা।
এ আয়োজনের প্রশংসা করে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রযুক্তির সঙ্গে সংস্পর্শ বাড়লেও মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ দিন দিনই কমছে। বই পড়ার ক্ষেত্রেও মানুষ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে বই পড়ার চর্চা এবং প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মননশীল, সুশিক্ষিত ও উন্নত জাতি গড়তে পাঠ্যাভ্যাস বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের পাঠাভ্যাস বাড়ানো আরো বেশি জরুরি। সেদিক থেকে এই আয়োজন ব্যতিক্রম হলেও তা সবখানে ছড়িয়ে দিতে পারলে ফলপ্রসূ ও কার্যকর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহদী হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পূর্বপ্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ বই পড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই পড়ার আনন্দটুকু ছড়িয়ে দিতে পারলে তাদের মাঝেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।’

এ ধরনের আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে উৎসবে অংশ নেয়া শিক্ষকদেরও। ঝিকরজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে গিয়ে বইগুলো আমাদের এমনিতেই পড়তে হয়। কিন্তু এমন আনুষ্ঠানিকভাবে এর আগে কখনো আমরা শিক্ষকেরা বই পড়ায় অংশ নেইনি। ফলে সবাই মিলে উৎসবের আমেজে ছাত্রছাত্রীদের মতো বই পড়ে বেশ ভালো লাগছে।’

About the author

szaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

February 2019
S M T W T F S
« Jan    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728