অর্থনীতি

মূলধনের ২০ হাজার কোটি টাকা নেই ৯ ব্যাংকের

যথেচ্ছা ঋণ বিতরণ ও পরবর্তীতে তা আদায় করতে না পারায় দেশের নয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। বিতরণকৃত ঋণের ঝুঁকি বিবেচনা করে ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ থাকলেও মূলধনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নেই এই নয় ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মানদ- ব্যাসেল-৩ অনুসারে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি, তা মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ বাধ্যাতামূলক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি সেপ্টেম্বরভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে নয় ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৮ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ৪০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে জনতা ব্যাংকের। প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের মাত্র ২.১২ শতাংশ মূলধন রাখতে পেরেছে, যেখানে প্রয়োজন ১০ শতাংশ। সম্প্রতি ক্রিসেন্ট লেদার ও এননটেক্স গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকা করে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ওই জালিয়াতির পর থেকেই খেলাপি ঋণ বেড়ে বিপাকে পড়েছে জনতা ব্যাংক।

ঋণের নামে লুটপাটে সর্বস্বান্ত বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের ৬৬২ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৬৬৮ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ২৮৬ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যাংকগুলোকে বছরের পর বছর মূলধনের জোগান দিচ্ছে সরকার। কয়েক বছরে জণগণের কর থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোকে। কিন্তু এর পরও ঘাটতি বাড়ছে এই খাতের ব্যাংকগুলোর।

বেসরকারি খাতেরও ৩টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে পরিচালকদের দুর্নীতির কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। ৯২৩ কোটি টাকা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতের ব্যাংকটির মূলধন সংরক্ষণের হার ঋণাত্মক ১২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৩০৭ কোটি টাকা এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বাড়লে মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন বাড়ে। আগে থেকেই খেলাপি ঋণ বেশি থাকা এবং নতুন করে ঋণ বিতরণ বাড়াতে না পারায় ব্যাংকগুলোর আয় বাড়ছে না। মুনাফা থেকে মূলধন রাখা হয়। কিন্তু যে হারে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়েছে সেইভাবে মুনাফা বাড়েনি। ফলে কয়েকটি ব্যাংকের মূলধনে ঘাটতি রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাত ভালো করেছে। সামগ্রিক হিসেবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসেবে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৯৫ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, যা মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকিং খাতে ৫ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে।

About the author

szaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

January 2019
S M T W T F S
« Dec    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031