SL News জাতীয়

বেদখল হয়ে যাচ্ছে ডেসটিনির সম্পদ ।। দায়ভার নিবে কে !

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কোম্পানিটির একরে পর এক সম্পদ সব বেদখল হয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে সাত বছর ধরে ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের জামিন হচ্ছে না। এর দায়ভার নিবে কে ! ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কোম্পানিটি ইতোমধ্যে জনগনের অন্তরে স্থান করে নিলেও স্বার্থনেষি কিছু মহলের রোষানলে পড়ে কোম্পানির কার্যক্রম দীর্ঘদিন জাবত বন্ধ থাকায় লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতী বেকার হয়ে মানবেতর জীবন জাপন করছে।

এমন প্রশ্ন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশক ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলামের। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেসটিনির বিনিয়োগকারীদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কোম্পানিটির সাতক্ষীরার ডিষ্টিবিউটর মাওলানা আব্দুর রশিদ ও শাহীদুজ্জামান অন্ত্যান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোম্পানিটি যে ভাবে বেকারদের কর্মস্ংস্থান করছিলো এমন কোম্পানি আজ পর্যন্ত একটাও দেশে নাই। দীর্ঘদিন যাবত কোম্পানি বন্ধ রয়েছে অথচ একজন ডিস্টিবিউটরও কোম্পানির বীরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। এতেই প্রমানিত হয় কোম্পানি কাউকে ঠকায়নি বরং উপকার করেছে।

কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসাইন ও মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ অন্য কর্মকর্তাদের মুক্তির দাবি করে শহিদুল ইসলাম বলেন, সবকিছু অরক্ষিত থাকার কারণে ডেসিটিনির ক্রয় করা বিভিন্ন বাগানের গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

জমি দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। প্রায় ছয় বছর ধরে আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। নির্মাণাধীন অনেক ভবন নষ্ট হচ্ছে- যার আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, রাজধানীর আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের কোনো আয়-ব্যায়ের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এই সিনেমা হল থেকে মাসে ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এ অর্থ ডেসটিনির ক্রেতা ও পরিবেশকরা পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছেন না।

আদালতের নির্দেশে পুলিশকে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেয়া সত্ত্বেও জমি, সম্পত্তি, স্থাপনা, দামি যন্ত্রপাতি ও অর্থ লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ডেসটিনির সম্পত্তি দখল ও অর্থ আত্মসাতের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কলাবাগান থানা এলাকার ৮৯ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের নাসির ট্রেড সেন্টারের ৬ ও ৭ ও ৮ তলায় ডেসটিনি গ্রুপের ক্রয়কৃত নিজস্ব কার্যালয় ছিল। সেখান থেকে উন্নতমানের অফিস ফার্নিচার, অত্যাধুনিক কম্পিউটার সার্ভার সিস্টেম, আধুনিক ইলেকট্রনিকসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের জিনিসপত্র ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে গেছে ভবনটির মালিকপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে ১৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতারা মানের একটি হোটেল অষ্টমতলা পর্যন্ত কাঠামো নির্মাণ শেষে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি এখন মাদকসেবন ও অনৈতিক কাজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

খুলনা শহরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭তলা এবং বরিশাল শহরে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬তলা বাণিজ্যিক ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশের নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর বন্ধ হয়ে গেছে।

এসব জায়গায় একটি কুচক্রীমহল মাছ চাষ করছে। রাজধানীর কাকরাইলে রাজমনি ঈশাখাঁ ভবনের পাশে এবং উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির জায়গা পুলিশ কমিশনারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় রোজা প্রপার্টিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দখল করে সেখানে জোর করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভবন তৈরির কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের লামায়, বান্দরবানের পাইতং, হাটহাজারী ও সাতকানিয়ায় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন প্রজেক্টের বাগান অরক্ষিত থাকায় বনদস্যুরা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ গাছ কেটে নিয়ে গেছে।

এছাড়া বিভিন্ন জেলা শহরে ডেসটিনির ব্যয়বহুল অফিসগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। মানুষ যত অপরাধই করুক জামিন পাওয়া তার নাগরিক অধিকার। ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম বলেন, ডেসটিনি দ্বারা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না, প্রতারিতও না।

তিনি আরও বলেন, ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় এনে নিঃশর্ত মুক্তি এবং সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা পরিবেশকদের কর্মসংস্থান ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিনিয়োগকারী মো. শরিফুল ইসলাম গাজী বলেন, আমাদের শীর্ষ পরিচালকরা কারাগারে থাকায় সম্পদের সঠিক দেখভাল হচ্ছে না। হাইকোর্ট থেকে ডেসটিনি সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব পুলিশকে দেয়া সত্ত্বেও এসব সম্পদ এখন অরক্ষিত।

প্রভাবশালীরা এসব সম্পদ দখল করে নিচ্ছে। দেখার কেউ নেই। কারো কাছে আমরা কোনো তথ্যও পাচ্ছি না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিনিয়োগকারী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের শীর্ষ পরিচালকদের ৭ বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের মতো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে কর্মহীন করা হয়েছে।

আমাদের বিনিয়োগের সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিচালকদের মুক্তি চাই। এক প্রশ্নের জবাবে বিনিয়োগকারী মো. আবুল হাছান বলেন, বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ৬৪টি স্থানের ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রয়েছে।

এ সম্পদগুলো একে এক বেহাত হয়ে যাচ্ছে। কেরানীগঞ্জের মাওয়া রোডে ডেসটিনি সিলভার টাউন নামে প্রজেক্টে ২৩৮৩ শতাংশ জায়গা প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে দখল করে নিয়েছে। ডেসটিনি শীর্ষ পরিচালকদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা ডেসটিনির মাধ্যমে ব্যবসা করে সচ্ছল জীবনযাপন করেছি। আটক শীর্ষ পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও আটকে রাখা হয়েছে।

৭ বছর আটকে রেখেও জামিন দেয়া হচ্ছে না। কোম্পানি বন্ধ করে দেয়ায় ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারী ও তাদের পরিবার-পরিজন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে মুক্তি।
তাদের কাছে আমাদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমরা অর্থ ফেরত চাই না তাদের মুক্তি চাই। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বিনিয়োগকারী, শারমিন আক্তার স্বর্ণা, মো. ওয়াসিম আকরাম, মো. শহীদ হোসেন প্রমুখ।

About the author

szaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031