পাঁচমিশালী সাহিত্য

মায়ের প্রতি ভালবাসা ।। মাহবুবা খাতুন

পিটিআইতে আসার পর দেখলাম যিনি শিক্ষদের শিক্ষক, এক এক জন টিচারের এক এক রকম সাতন্ত্রতা ৷ এক এক রকম চমৎকার বৈশিষ্টের অধিকারী ৷ পড়ানোর আর্ট একেক রকম ৷ যতই দিন যায় টিচারদের অগাধ পান্ডিত্বের পরিচয় গভীরভাবে উপলব্ধি করি ৷ সত্যিই তা বিশেষ রকম ৷ এই তো সেদিন বাংলা (sk) এর ক্লাসে সবার শ্রদ্ধেয়, যার ক্লাস করতে সবাই থাকে সদা উৎসুক,যিনি পাঠকে সব সময় আমাদের জন্য উপস্থাপন করেন প্রানবন্তভাবে, বিরক্তিহীন,ক্লান্তিহীন, সুখপাঠ্য ৷ গল্পের ছলে কখন যে নির্ধারিত টপিকটা সবার বোধগাম্য করে পড়িয়ে ফেলেন তা সত্যিকার অর্থে এক কথায় অসাধারন ৷ গত দুই দিন আগে বাংলা ক্লাসে তিনি বললেন সবাইকে আজ একটা অন্যরকম অদ্ভুত বিষয় বলবেন, যা সাধারনত কেউ চিন্তা করেনি ৷ এর পর তিনি বললেন, ‘মনে করেন আপনি মারা যাচ্ছেন বা মৃত্যু পথ যাত্রী ৷এই সময়ে সবার আগে যে প্রিয়জনের কথা মনে পড়বে , তিনি হলেন বাবা-মা ৷ এখন এই মূহূর্তে নিজেকে কল্পনা করে মাকে একটি চিঠি লিখুন ৷ 10 মিনিট সময়ে সবাই লিখলো ,তিনি কিছু কিছু শুনলেন ৷ এর পর একজন মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধাহত অবস্থায় মাকে লেখা চিঠি টি যা আমাদের বইয়ে আছে,পড়িয়ে ফেললেন ৷এভাবে তিনি একটি কার্যকরি ক্লাস শেষ করলেন,৷তো মায়ের কাছে লেখা আমার কাল্পনিক অন্তিম মুহূর্তের পত্রটি বাস্তবতার প্রতিফলন ৷সবার বিচার্য ৷

প্রিয় মা,
সালাম নিবেন ৷ জীবনের অন্তীম মুহূর্ত ৷ বড় বেশি মনে হচ্ছে অতীত স্মৃতিগুলো ৷ পরিবারের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ৷ বিশেষ করে বাবা আর আপনাকে জ্বালাতন করার কত স্মৃতি ৷ ভাবতে হৃদয় কষ্টে লীন হয়ে যাচ্ছে যে, আজ এই মুহূর্ত থেকে পৃথিবীতে আমি আর রব না ৷ মা 9 ভাই -বোনের মাঝে আমিই মনে হয় আপনাদের বেশি জ্বালিয়েছি ৷ একমাত্র আমার-ই কারনে আপনাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল ৷ আপনার হাতের মাখানো খাবার না খেলে পেট ভরত না,আপনার হাতের ছোয়া না পেলে ঘুম আসতো না, মা–,বড় বেশি মনে পড়ছে আপনাকে কারনে- আকারনে কতবার ডাকতে থাকতাম,মাঝে,মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে চুপ হয়ে যেতেন,আবার কাছে গেলে আদর করে বুকে টেনে নিতেন, আর বাবার কথা,ক্লাস থ্রীতে যখন পড়ি, দেরি হয়ে গেল বলে স্কুলে যাব না ৷বাবা লাঠি নিয়ে আসলেন মারতে,আর আমিতো বাবা র হাতের লাঠি কেড়ে নিয়ে ফেলে দিয়ে বাবাকে মারতে মারতে বাবার কোলে উঠে বসলাম ৷ এ নিয়ে আপু তো প্রায় ক্ষ্যাপাতো যে,9 ভাই -বোনের মাঝে তুই শুধু বাবাকে মেরেছিস ৷ ভাই-বোনদের সাথে খুনসুটি,মারামারি,হুড়োহুড়ি,আরও কত মধুময় স্মৃতি হৃদয়কে অন্দোলিত করে চলেছে এই বিদায় লগ্নে ৷ মা, আজ অনেক কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে,কিন্তু হাতটা অসাড় হয়ে আসছে,শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে ৷ দম বন্ধ হয়ে আসছে ৷ ভাবতে খু–উ—ব কষ্ট হচ্ছে যে আপনার কোলে আর কখনও মাথা রেখে ঘুমাতে পারবো না ৷ মা বলে ডাকতে পারব না ৷ এতটা বড় হয়েছি কখনো বুঝতে দেননি ৷ সেই ছোট্টটি রয়ে গেলাম ৷ মা,যাওয়ার বেলাই এইটুকু বলবো,আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন ৷ বাবা,ভাই -বোন সহ সবাইকে ক্ষমা করে দিতে বলেন ৷ মা,আর একটা কথা,আমার মৃত্যুর পর একটুও কাঁদবেন না কিন্তু ৷ আমার কবেরর পরে শিউলি,বকুল আর আমার পছন্দের দোঁলনচাপা লাগিয়ে দিয়েন,যেন ওদের সুবাসের ন্যায় সারা বাড়ি বিচরন করি স্মৃতিতে ভর করে ৷ আমার ফুলের বাগানটা দেখেন, আর দোয়া করেন ৷ আর পারছি না মা,দেখা হবে জান্নাতে ইনশাআল্লাহ ৷

About the author

szaman

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

December 2018
S M T W T F S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031