SL News জাতীয়

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় ভোলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কমিটির পক্ষ থেকে জরুরি প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে।

তিতলির প্রভাব এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলায় মঙ্গলবার দপুর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে।

ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক অফিসার মো. নাসিম আলী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভোলা-বরিশাল, ভোলা-ঢাকা, ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে লঞ্চ-ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় কোস্টগার্ড, সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট, এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা, ত্রাণ অফিস, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারদের প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ভোলা সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলায় আটটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রায় ৫০০টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক সকলকে সর্তক হওয়ার জন্য আহ্বানও জানান।

এদিকে, ঝড়ের প্রভাবে ভোলার নদ-নদীগুলো উত্তাল হয়ে পড়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।

এদিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে বাংলাদেশের নৌ চলাচল ও ভারতের দক্ষিণগামী বেশকিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ রয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টায় উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে তিতলি। যার ফলেই আবহাওয়াবিদদের আশংকা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলঘ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও ঘণীভূত হয়ে হ্যারিক্যানের তীব্রতা সম্পন্ন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। সমুদ্র বন্দরসমুহকে চার নম্বর স্থানীয় হঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণিভূত হয়ে উত্তর/উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারী সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

About the author

quicknews

Add Comment

Click here to post a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

October 2018
S M T W T F S
« Sep    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031